ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে নতুন এক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউস এক ২০ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষ প্রস্তাবগুলো মেনে নিলে যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হবে।
ইতিমধ্যে এ সংঘাতে গাজার ৬৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, আর গোটা অঞ্চল পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।
হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা অনুযায়ী—
-
যুদ্ধ থামানোর শর্তে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মিকে (জীবিত বা মৃত) ফেরত দেওয়া হবে।
-
একই সঙ্গে ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনি বন্দীদেরও মুক্তি দেওয়া হবে।
-
গাজার প্রশাসন সাময়িকভাবে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকারের হাতে থাকবে, যেখানে হামাসের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
-
ইসরায়েল গাজা দখল বা একে সংযুক্ত করবে না।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। তবে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখনো গাজার জন্য কোনো লিখিত শান্তি পরিকল্পনা হাতে পাননি।
পরিকল্পনার মূল দিকগুলো
১. গাজাকে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত করা।
২. যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন।
৩. উভয় পক্ষ রাজি হলে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি।
৪. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জিম্মি ফিরিয়ে দেওয়া।
৫. সব জিম্মি ফেরার পর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ২৫০ ফিলিস্তিনি বন্দী ও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর আটক ১,৭০০ গাজাবাসীর মুক্তি।
৬. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে রাজি হামাস সদস্যদের সাধারণ ক্ষমা ও নিরাপদে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ।
৭. গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে পূর্ণ অনুমতি।
৮. জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সহায়তা বিতরণ।
৯. গাজার প্রশাসন টেকনোক্র্যাট কমিটির হাতে; আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ তত্ত্বাবধান করবে।
১০. গাজা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা।
১১. বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা।
১২. কাউকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না, তবে পুনর্গঠনে থাকার জন্য উৎসাহ দেওয়া হবে।
১৩. হামাসসহ কোনো সংগঠন প্রশাসনে অংশ নেবে না; নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম চালানো হবে।
১৪. আঞ্চলিক অংশীদারদের নিশ্চয়তা যে গাজা আর হুমকি হবে না।
১৫. গাজায় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)’ মোতায়েন; সীমান্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদার।
১৬. ইসরায়েল ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে; চূড়ান্তভাবে নিয়ন্ত্রণ আইএসএফের হাতে যাবে।
১৭. হামাস রাজি না হলেও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চলগুলো আইএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
১৮. আন্তধর্মীয় সংলাপ চালু করা হবে।
১৯. ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করা।
২০. ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে স্থায়ী রাজনৈতিক সংলাপ শুরু।
হোয়াইট হাউস মনে করছে, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে যুদ্ধ থামবে, গাজা পুনর্গঠনের পথ খুলবে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের জন্য নতুন আশা তৈরি হবে।






