
ছবি :সংগৃহীত
সৌদি আরবের তিন শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।
জোটের মুখপাত্র জানান, সোমবার সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হুতিরা।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র বলেন, হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পাশাপাশি সাতটি বাড়ি ও দুটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের পরিচয় কিংবা তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অভিযোগ, হুতিরা পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে।
ইয়েমেনে দীর্ঘ সংঘাত
ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধের সঙ্গে সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর পরের বছর, ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
তবে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইয়েমেনে বড় ধরনের সংঘর্ষের মাত্রা অনেকটাই কমে আসে।
সম্প্রতি ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের নতুন করে অগ্রযাত্রায় সেই যুদ্ধবিরতি আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা দখলের পর হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির প্রবেশমুখে থাকা মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাড়ছে নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের উদ্বেগ
লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফলে ওই এলাকায় হুতিদের অগ্রযাত্রা নৌপথটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও হুতিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
জোটের দাবি, এসব হামলার জবাবেই হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নিয়মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ে বিরোধও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য নয়, লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের সংঘাতের কারণে নতুন করে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।



