মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ব্রিটেনে অনলাইন শপিং আগ্রাসন : ২০৩০ সাল নাগাদ দোকানপাট বিলুপ্ত হবে



ব্রিটেনে অনলাইন শপিং আগ্রাসন, দোকানপাট পরিচালনায় সার্বিক ব্যয় বৃদ্ধিতে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে ইতোমধ্যে ব্যস্ততম শপিং স্ট্রিটগুলোতে ভুতুড়ে পরিবেশ বা ক্রেতাশূণ্য আবহের সৃষ্টি হয়েছে। অনলাইন শপিং’এর বিশেষ ছাড়, বাড়িতে পণ্য পৌঁছে দেয়ার নিশ্চয়তায় ক্রেতার সময় বেঁচে যাওয়া, যানজট এড়িয়ে কেনাকাটার ঝক্কি ছাড়াই পছন্দসই পণ্য হাতে পাওয়ার মত বিভিন্ন সুযোগে দোকানপাট, বিপনিবিতান বা শপিংমলের দ্বারস্থ হতে চাচ্ছেন না ব্রিটিশ নাগরিকরা। এর মিলিত প্রভাব উল্লেখযোগ্যহারে পড়েছে দোকানদারির ওপর। এর ফলে ব্রিটেনের নামকরা সব হাইস্ট্রিটগুলো নিরব নিথর হয়ে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে ২০৩০ সালের আগেই দোকানপাটের ব্যবসা লাটে উঠবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে এ্যাশলে নামের আসবাব কোম্পানি, যাদের সারাবিশ্বে ৮ শতাধিক স্টোর রয়েছে।

এজন্যে অনলাইন শপিং এর বিপরীতে দোকানপাটের ব্যবসাকে কিভাবে টিকিয়ে রাখা যায় সে জন্যে বিভিন্ন সুযোগ ও ছাড় দেয়ার বিবেচনা ছাড়াও টিকে থাকার নানা কৌশল নিয়ে ভাবছেন ব্যবসায়ী নীতিনির্ধারকরা। অনলাইন শপিংএ নতুন করে ফের কর আরোপের দাবি তুলেছেন তারা। নিউক্যাসল ইউনাইটেড নামে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বলছে অনলাইন শপিং এর চেয়ে তারা খুচরা বিক্রিতে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর দিচ্ছেন। তারপরও তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অনলাইন ব্যবসার বিকল্প হিসেবে ছোট ছোট মোবাইল শপ ব্যবসা চালুরও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কিন্তু রাস্তায় যদি ক্রেতাদের না পাওয়া যায় তাহলে এ বিকল্প কোনো কাজে আসবে না বলেও তারা শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

বিষয়টি নিয়ে ব্রিটেনের হাউজিং এন্ড লোকাল গভর্নমেন্ট সিলেক্ট কমিটি বলছে অক্সফোর্ড স্ট্রিটস বা ওয়েস্টফিল্ডস’এর মত বনেদি কেনাকাটার এলাকাগুলো নিথর হয়ে পড়েছে ক্রেতাশূণ্যতায়। আর লন্ডনের বাইরে এধরনের এলাকাগুলো ইতোমধ্যে ভুতুড়ে পরিবেশে রুপান্তরিত হয়েছে। ইন্টারনেট বা ইন্টারনেট ভিত্তিক অনলাইন ব্যবসা এধরনের ব্যবসাকে হত্যা করেছে। হাউজ অব ফ্রেসারস বা মার্কস এন্ড স্পেন্সারস এর মত বড় বড় চেইনশপগুলো এখন বিষয়টি নিয়ে রীতিমত শঙ্কিত।

শেয়ার করুন:

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

error: Content is protected !!